Friday, December 31, 2021

Bengali Meaning of Shakespeare's Sonnet 30 (When to the sessions of sweet silent thought)

Sonnet 30: When to the sessions of sweet silent thought
William Shakespeare

When to the sessions of sweet silent thought
I summon up remembrance of things past,
I sigh the lack of many a thing I sought,
And with old woes new wail my dear time's waste:

Then can I drown an eye, unus'd to flow,
For precious friends hid in death's dateless night,
And weep afresh love's long since cancell'd woe,
And moan th' expense of many a vanish'd sight;

Then can I grieve at grievances foregone,
And heavily from woe to woe tell o'er
The sad account of fore-bemoaned moan,
Which I new pay as if not paid before.

But if the while I think on thee, dear friend,
All losses are restor'd, and sorrows end.

যখন মধুর নিরব ভাবনা গুলি একত্রিত করার জন্য

আমি অতীতের স্মৃতি গুলি কে মনের মধ্যে স্মরণ করি

তখন আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি কারন আমি অনেক কিছু চেয়েছিলাম কিন্তু সেগুলি পাইনি

এবং ঐ অতীতের কষ্ট যার জন্য আমার মুল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে তা ভেবে এখন আমার কান্না পায়

এখন আমার চোখ জলে ভেসে যাচ্ছে যেই চোখ কাঁদতে অভ্যস্ত নেই

সেই সব অমূল্য বন্ধুদের জন্য যারা লুকিয়ে আছে মৃত্যুর অন্তহীন রাত্রিতে ,

এবং নতুন করে আমি কেঁদে উঠি পিছনে ফেলে আসা ভালোবাসার কষ্টে

এবং আমি কান্না করি ঐ সব হারিয়ে যাওয়া মূল্যবান স্মৃতি গুলির জন্য

তারপর আমি অতীতের দুঃখে দুঃখ করি

এবং দুঃখী হয়ে আমি এক দুঃখ থেকে অন্য আর এক দুঃখের কথা বলতে বলতে

অতীতের যে দুঃখে আমি আগেই কান্না করেছি/ দুঃখী হয়েছি

সেটার জন্য আবার আমি যেভাবে কাঁদছি যেন আমি সেই দুঃখের জন্য আগে কাঁদিনি

কিন্তু হে প্রিয় বন্ধু, সেই দুঃখের সময় আমি তোমার কথা ভাবি

তখন আমার (অতীতে অনেক কিছু) হারানোর ক্ষতি পূরণ হয় এবং আমার দুঃখ শেষ হয়।

Summary of Sonnet- 30

This is one of the greatest sonnets of Shakespeare. Here the mood is one of profound grief of the poet about his past. The poet thinks of his past losses of near and dear ones, misfortunes of failures, sorrows of unfulfilled ambitions , and griefs. All the sorrows and failures of his past life bring tears into his eyes. Sometimes the poet gets lost in his thoughts and meditations as if he were holding a conference with himself. On such occasions he recalls the events and the happenings of his past life. He then feels very sad to think that he had not been able to acquire many things which he had tried to attain. In this way, the poet gets filled with fresh sorrow because of the precious time which he wasted in his futile quest of those things. Tears fill his eyes, although he is not in the habit of shedding tears. Tears come into his eyes when he thinks of the dear friends who have died and vanished in the everlasting darkness. Those tragic deaths took place long ago; and he had almost forgotten them. But now, when he recalls them, he begins to shed fresh tears. The poet also begins to lament the disappearance of many of the sights which he used to witness in the past. In this way he begins to experience once again the distress which he had previously experienced at the time when he was overtaken by those afflictions. His mind then begins to travel, in a mood of deep sadness, from one past grief to another past grief, and he goes over the entire series of griefs over which he had sighed before and over which he now sighs once again. His present lament over those griefs seems to be as fresh as it originally was, and he feels that he had never actually wept before over those losses and sorrows. However, if the poet turns his thoughts to you, his dear friend. he feels compensated for all his losses; and all his sorrows then seem to end.

Bengali Meaning of Shakespeare's Sonnet 27 - Weary with toil, I haste me to his bed

Weary with toil, I haste me to his bed 

Sonnet 27

William Shakespeare

Weary with toil, I haste me to his bed,
The dear repose for limbs with travel tired
But then begins a journey in his head,
To work his mind, when body’s work’s expired:

For then his thoughts, from far where I abide,
Intend a zealous pilgrimage to thee,
And keep his drooping eyelids open wide,
Looking on darkness which the blind do see:

Save that his soul’s imaginary sight
Presents thy shadow to his sightless view,
Which, like a jewel hung in ghastly night
Makes black night beauteous and her old face new

Lo! Thus, by day his limbs, by night his mind,
For thee and for my self no quiet find.

সারা দিনের পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে, আমি ছুটে যাই আমার বিছানায়

সারাদিনের হাঁটাচলার ক্লান্তিতে আমার অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাছে এই বিশ্রাম টি খুব আরামের অনুভব হচ্ছে;

কিন্তু তারপর আমার মাথায় একটি ভাবনা ঘুরপাক শুরু করে,

যা আমার মাথা কে ব্যস্ত করে তোলে যখন দিনের বেলার শারীরিক কাজ শেষ হয়েযায় 

বন্ধু, তোমার থেকে দূরে থাকা অবস্থাতে, তখন থেকেই আমার ভাবনা গুলি

তোমার কাছে ছুটে  যেতে  উৎসাহী হয়

এবং আমার বন্ধ হয়ে আসা চোখের পাতা গুলিকে বড় করে খুলে রাখতে বাধ্য করে 

এবং অন্ধকারের দিকে চোখ দুটি তাকিয়ে থাকে যেভাবে অন্ধরা তাকিয়ে থাকে

এর পাশাপাশি আমার মনের কাল্পনিক দৃষ্টি 

তোমার প্রতিচ্ছবি কে হাজির করে  আমার আমার অন্ধকার দৃষ্টির মধ্যে

যা দেখলে মনে হয় অন্ধকার , ভয়ের রাতে একটি হীরে জ্বলজ্বল করছে

যা এই অন্ধকার রাত্রি কে আরও সুন্দর করে তোলে এবং রাত্রি টাকে আরও নতুন করে তোলে

তাই, এই ভাবে দিনের বেলায় আমার শরীর ক্লান্ত হয় এবং রাত্রিতে আমার মন ক্লান্ত হয়

আর তোমার ও আমার মনে কোন শান্তি নেই ( তুমিও আমার মত বিচ্ছেদ যন্ত্রণার কষ্ট পাচ্ছো )

Summary of the Sonnet- 27

This sonnet was evidently written at a time when Shakespeare's friend had gone away from the city of London, most probably for a stay at his country mansion. Shakespeare was at that time feeling lonely in the absence of his friend, and he has here described his physical and mental condition of the time. Feeling tired of his day’s labour, the poet hastens to his bed which offers to him a pleasant rest during the night for his limbs which are tired because of his bodily travelling. But at night his mind goes on a journey. After his physical work of the day has ended, his mind begins its labour. His thoughts at that time go to poet’s friend. Finding himself far away from friend, he proposes undertaking a mental journey to meet him. This mental journey is a sacred one, and the poet starts it with great eagerness. The idea of travelling mentally to meet his friend keeps his drowsy eyes wide open, and does not allow the poet to fall asleep. In the darkness of the night, poet can see nothing except darkness itself. The night's darkness is similar to the darkness which the sightless or blind people see. However, his mind's imaginary vision brings friend’s image to his darkened eyes; and this image of friend shines like jewel in the dreadful darkness of the night. This image makes the dark night beautiful, and imparts a newness to its old face. Under these circumstances, his body during the day and his mind during the night can find no rest either for the poet or for his friend. The poet thinks that probably his friend has also lost the peace of mind for the distance from the poet.

Wednesday, December 29, 2021

Bengali Meaning of Tintern Abbey by William Wordsworth (Part- 1). Lines Composed a Few Miles above Tintern Abbey, On Revisiting the Banks of the Wye during a Tour. July 13, 1798 টিনটার্ন অ্যাবে কবিতার বাংলা অর্থ

কবিতাটি 1798 সালের 13 ই জুলাই লেখা হয় এবং ওই বছরই Lyrical Ballads কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত হয়। এটি ওই কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা।ওয়াই নদীর তীরে টিন্টার্ন অ্যাবে অবস্থিত।কবি 1793 সালে প্রথম ওখানে ভিজিট করেন এবং দ্বিতীয়বার যখন তিনি পাঁচ বছর পর ওই একই জায়গাতে ভিজিট করতে যান তখন তিনি এ কবিতাটি রচনা করেন। কবিতাটি রচনা করার সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার বোন ডরোথি। টিন্টার্ন অ্যাবের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কবিকে মুগ্ধ করেন। এই স্থানটি ওয়াই নদী এবং সেভার্ন নদীর সঙ্গমস্থল থেকে দশ মাইল উপরে অবস্থিত।

Lines Composed a Few Miles above Tintern Abbey, On Revisiting the Banks of the Wye during a Tour. July 13, 1798

William Wordsworth

Five years have past; five summers, with the length

পাঁচটি বছর পার হয়েগেছে; সঙ্গে পাঁচটি গ্রীষ্ম এবং

Of five long winters! and again I hear

পাঁচটি দীর্ঘ শীতও পার হয়েগেছে! এবং আবার আমি শুনতে পাই

These waters, rolling from their mountain-springs

ঐ জলের শব্দ যেগুলি পাহাড়ি উৎস থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে নিচে পরছে

With a soft inland murmur.—Once again

মৃদু শব্দের সাথে।– আবার পুনরায়

Do I behold these steep and lofty cliffs,   5

দেখতে পাচ্ছি খাড়া, উচু পর্বতের চূড়া গুলি

That on a wild secluded scene impress

এই বন্য নির্জন দৃশ্য সৃষ্টি করছে

Thoughts of more deep seclusion; and connect

আরো গভীর নির্জনতা কে এবং যুক্ত করছে

The landscape with the quiet of the sky.

ভূভাগ কে শান্ত আকাশের সাথে

The day is come when I again repose

সেই দিনটি আবার ফিরে এসেছে যখন আমি বিশ্রাম নিচ্ছি এখানে

Here, under this dark sycamore, and view     10

অন্ধকারময় ডুমুর গাছের তলা থেকে আমি দেখি

These plots of cottage-ground, these orchard-tufts,

কুটিরের ফাকা উঠোন, ফলের বাগিচা

Which at this season, with their unripe fruits,

যেগুলি এই ঋতুতে ভরে থাকে অপক্ক

Are clad in one green hue, and lose themselves

সবুজ ফলে এবং সেই ফল গুলি নিজেদের মিশিয়ে ফেলেছে

'Mid groves and copses. Once again I see

ছোট বড় গাছের মধ্যে। আবার পুনরায় আমি দেখতে পাই

These hedge-rows, hardly hedge-rows, little lines   15

ঝোপের সারি গুলি, সেগুলি ঝোপের সারির মত ও না কারন

Of sportive wood run wild: these pastoral farms,

সেগুলি এখন জংলি গাছের মত বেড়ে উথেছেঃ এই গ্রাম্য খামার বাড়ি গুলির

Green to the very door; and wreaths of smoke

প্রায় প্রতিটি ঘরের দরজা পর্যন্ত সবুজ ঘাসে ভরে গেছে; ধোঁয়া গুলি কুণ্ডলী পাকিয়ে

Sent up, in silence, from among the trees!

নিঃশব্দে ওপরে উঠে আসছে গাছের মধ্যে দিয়ে!

With some uncertain notice, as might seem

সকলের অগোচরে হয়তো সেই ধোঁয়া গুলি আসছে

Of vagrant dwellers in the houseless woods,   20

কোন গৃহহীন যাযাবর দের থেকে যারা বনের মধ্যে আস্তানা গেড়েছে

Or of some Hermit's cave, where by his fire

অথবা সেই ধোঁয়া গুলি কোন সাধুর গুহা থেকে আসছে যেখানে আগুনের পাশে

The Hermit sits alone.

সেই সাধু একা বসে আছে।

These beauteous forms,

এই সুন্দর দৃশ্যটি

Through a long absence, have not been to me

এই দীর্ঘ অনুপুস্থিতির মধ্যে আমার কাছে মোটেও আমার দৃষ্টির বাইরে ছিলনা

As is a landscape to a blind man's eye:

ঠিক যেমন ভাবে একজন অন্ধ মানুষের কাছে থাকে

But oft, in lonely rooms, and 'mid the din   25

কিন্তু প্রায়শই, একাকী ঘরের মধ্যে এবং

Of towns and cities, I have owed to them,

‘শহরের কোলাহলের মাঝে থাকা কালীন, আমি এইসব প্রাকৃতিক দৃশ্যের কাছে ঋণী

In hours of weariness, sensations sweet,

কারন দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তির মধ্যে সেগুলি আমায় মধুর শান্তি প্রদান করতো

Felt in the blood, and felt along the heart;

সেই শান্তিটা আমি অনুভব করতাম আমার রক্ত প্রবাহে, আমার হৃদয়ে

And passing even into my purer mind

এবং সেটি আমার আরো বিশুদ্ধতর মনের মধ্যে ছাপ ফেলে যেত

With tranquil restoration:—feelings too   30

যা আমার মনকে পুরনো শান্তিতে ফিরিয়ে নিয়ে যেত-

Of unremembered pleasure: such, perhaps,

যা আমাকে দিয়েছে অগুনিত সুখ-

As have no slight or trivial influence

তার ব্যাপক প্রভাব

On that best portion of a good man's life,

একজন ভালো মানুষের জীবনের অনেকটা অংশের ওপর থাকে

His little, nameless, unremembered, acts

যা ক্ষুদ্র , নামহীন , অগুনিত

Of kindness and of love. Nor less, I trust,   35

ভালোবাসা এবং দয়ার প্রভাবের মত। আমি অনেকটাই বিশ্বাস করি

To them I may have owed another gift,

সেই প্রকৃতির কাছ থেকে আমি আরও একাটা উপহার পেয়েছি

Of aspect more sublime; that blessed mood,

যা আরও মহিমান্বিত সেটি হল মনের সুখকর অবস্থা

In which the burthen of the mystery,

যার মধ্যে রহস্যময় গোটা পৃথিবীর সমস্যার ভার,

In which the heavy and the weary weight

যার মধ্যে প্রত্যহ জীবনের কষ্টের ভার

Of all this unintelligible world,   40

যেগুলি এই এই দুর্বোধ পৃথিবীর

Is lightened:—that serene and blessed mood,

সেই সব ভারগুলি হাল্কা হয়ে যায়- ঐ নির্মল শান্তভাব

In which the affections gently lead us on,—

আমাকে চালিত করে নিয়ে যায়-

Until, the breath of this corporeal frame

যতক্ষণ না মাংসের শরীরের শ্বাসপ্রশ্বাস

And even the motion of our human blood

এবং এমনকি মানব দেহের রক্ত চলাচল

Almost suspended, we are laid asleep   45

পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং আমাদের বাধ্য করে পার্থিব অস্তিত্ত ভুলে যেতে

In body, and become a living soul:

এবং বাধ্যকরে দেহ ত্যাগ করে একটি জিবন্ত আত্মায় পরিণত হতেঃ

While with an eye made quiet by the power

যখন আমার মানস চক্ষু শান্ত হয়

Of harmony, and the deep power of joy,

সম্প্রীতি এবং আনন্দের গভীর ক্ষমতার দ্বারা

We see into the life of things.

তখন আমি জীবনের মূল অর্থ বুঝতে পারি।



Biography of Neeraj Chopra

India is full of talented people who have heightened the prestige and glory of their motherland and made every Indian proud with their deeds. Neeraj Chopra is one of them. Despite his young age, Indian javelin thrower Neeraj Chopra has already engraved his name in the history books by becoming the first and only track and field athlete from the country to win an Olympic medal – that too a gold.

He was born in Haryana on 24 December 1997. His parents are Satish Kumar and Saroj Devi. He got his graduation degree from Dayanand Anglo-Vedic College, Chandigarh. He learned the basics of javelin throwing from Jaiveer Choudhary and other athletes. He won his first gold medal in the district championships. In 2012 National Junior Athletics Championships, he won gold. He started his international competition in 2013. He also won gold in 2017 Asian Athletics Championship. He did not participate in the 2019 World Championship due to some bone injury. But he did not give up and he participated at the Tokyo Olympics 2020 and secured a Gold Medal in Javelin Throw on 7th of August, 2021 and made every Indian proud. On returning India, he was felicitated by whole India. We the Indians will never forget his achievement for nation.

Monday, December 27, 2021

Bengali Meaning of Sonnet- 116 by Shakespeare. শেক্সপিয়ারের সনেট ১১৬ এর বাংলা অর্থ।

Sonnet 116: Let me not to the marriage of true minds
William Shakespeare

Let me not to the marriage of true minds
Admit impediments. Love is not love
Which alters when it alteration finds,
Or bends with the remover to remove.

O no! it is an ever-fixed mark
That looks on tempests and is never shaken;
It is the star to every wand'ring bark,
Whose worth's unknown, although his height be taken.

Love's not Time's fool, though rosy lips and cheeks
Within his bending sickle's compass come;
Love alters not with his brief hours and weeks,
But bears it out even to the edge of doom.

If this be error and upon me prov'd,
I never writ, nor no man ever lov'd.

আমি স্বীকার করি প্রকৃত মনের মিলনে
কোনো বাঁধা আসে না। সেই ভালোবাসা ভালোবাসাই না
যেটি প্রেমিকার বদলে যাওয়ার সাথে সাথে নিজেও বদলে যায়
বা প্রেমিকার ভালোবাসা হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে নিজের ভালবাসাও দিক পরিবর্তন করে।

ওহ না! প্রেম হল একটি অপরিবর্তনশীল চিহ্ন (লাইট হাউস –এর মত)
যা প্রবল ঝড়ের সম্মুখীন হয়েও কখনই কম্পিত হয় না;
প্রেম হল পথ হারানো জাহাজের কাছে ধ্রুব তারার মত
যার মূল্য অজানা, কিন্তু তার উচ্চতা মাপা যেতে পারে।

ভালোবাসা সময়ের হাতের পুতুল না, যদিও প্রেমিকার গোলাপের মত ঠোঁট এবং গাল
সময়ের বাঁকা কাস্তের কোপের মধ্যে আসতে পারে; / শারীরিক সৌন্দর্য হারাতে পারে
ভালোবাসা ক্ষুদ্র সময় এর মধ্যে পরিবর্তন হয় না
বরং ভালোবাসা পৃথিবীর ধ্বংসের মুহূর্ত অবধি বেঁচে থাকবে।

এই সব যদি ভুল প্রমানিত হয় এবং সব কথা গুলি আমার বিরুদ্ধে যায়
তাহলে মেনে নেব আমি কোনো দিন লিখি নি বা কোন মানুষ কখনই ভালবাসেনি।

Paraphrase / Critical Appreciation of Sonnet – 130

The poet Shakespeare here glorifies the eternity of LOVE in his Sonnet- 116. He considers that the real love remains unchanged at any time of life. The Poet is not ready to admit any obstacle in the way of their union of true lovers. Love is not true or real if it gets a changed when his beloved’s love gets changed. A man's love for his beloved is not true if it changes its direction when his beloved shifts her affections from him to somebody else.

This type of love is not solicited. True love is like a fixed mark like a lighthouse on the sea beach that stands firm against the power of storms and gales on the sea, and is never shaken from its place and carries out its duty. Also the poet compares true love to the northern star which remains fixed in its position in the sky. It in olden days, used to serve as a guide to ships sailing on the sea. Just like it, a true love can guide a wandering lover and can take him to his right love. The value of the northern star was infinite and could never be measured, even though its height from the earth could be judged with a fair degree of accuracy.

Time cannot capture true love in his clutch or Time cannot bring true love in the mouth of bending sickle. Though the poet admits that Time cannot kill the love totally but can snatch away the physical beauty of beloved just like the rosy lips and cheeks of a beautiful woman may fade and lose their charm. Poem also admits that real love does not change within a very little time period; rather it remains unchanged till the doom’s day. Until the earth gets destroyed, the true love will live.

In the concluding couplet, Shakespeare challenges the readers to prove his theory of true love wrong and he declares that if he is proved wrong, and if his own love for my beloved is proved to be impure, he would admit that whatever he has written in his life should be treated as unwritten, and that no man has ever loved anybody truly.

Monday, December 20, 2021

Bengali Meaning of the poem 'The Tyger' by William Blake

উইলিয়াম ব্লেক (1757-1827)  ইংল্যান্ডের রোমান্টিক আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত। The Tyger কবিতা টি  ব্লেকের Songs of Experience কাব্যাগ্রন্থ  থেকে নেওয়া হয়েছে যা 1794 সালে প্রকাশিত হয়েছিল। Songs of Experience  কাব্যগ্রন্থ সমাজের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে।

বাঘ একটি সুন্দর আকৃতির একটি ভয়ঙ্কর প্রাণী। রাতে জঙ্গলে, তার চোখ আগুনের গোলার মত উজ্জ্বলভাবে জ্বলে। বাঘের শরীরে কে বানিয়েছে  তা ভেবে কবি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।  শরীর টি ভীতিকর কিন্তু সুগঠিত। বাঘের সৃষ্টি কর্তা  অবশ্যই তার চোখের জন্য প্রয়োজনীয় আগুন আনার জন্য দূরবর্তী আগ্নেয়গিরির গভীরে বা আকাশে গিয়েছিলেন। বাঘের হৃৎপিণ্ডের পেশী গঠনে তাকে অবশ্যই প্রচুর শারীরিক শ্রম এবং অনেক সময় দিতে হয়েছে। এবং যখন বাঘ একটি জীবন্ত বাস্তবে পরিণত হয়েছিল, তখন তার থাবা এবং পা গুলিকে ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছিল। স্রষ্টাও নিশ্চয়ই তার আকার গঠনে বিশাল হাতুড়ি,  চেইন ব্যবহার করেছেন। বাঘটি তৈরি করার সময় তিনি দুর্দান্ত দক্ষতা এবং সাহস প্রদর্শন করেছিলেন। Angel রা বাঘের সৃষ্টি দেখে এতটাই বিস্মিত হয়েছিল যে তারা তাদের বর্শা নিচে ফেলে কেঁদে ফেলল। কবি আশ্চর্য হন যে ঈশ্বর তার নতুন সৃষ্টি (অর্থাৎ বাঘ) দেখে তৃপ্তির সাথে হাসলেন। যে ভগবান নম্র ও নির্দোষ মেষশাবককে সৃষ্টি করেছেন তিনি কীভাবে হিংস্র বাঘ সৃষ্টি করেছেন তা কবি বুঝতে পারছেন না। এখানে বাঘ বলতে কবি মানুষের হিংস্রতা কে বুঝিয়েছেন।

The Tyger


William Blake

Tyger Tyger, burning bright, ও বাঘ, তোমার চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছে

In the forests of the night জঙ্গলে রাতের আঁধারে 

What immortal hand or eye  কোন ঐশ্বরিক হাত বা চোখ

Could frame thy fearful symmetry?তোমার ভয়ঙ্কর চেহারাটি বানিয়েছে?

In what distant deeps or skies কোন গভীর পাতাল বা আকাশ থেকে

Burnt the fire of thine eyes?তোমার সৃষ্টিকর্তা তোমার চোখের জন্য আগুন এনে দিয়েছে?

On what wings dare he aspire?কোন ডানার ওপর ভর করে সে সাহস করে  উড়ে গিয়ে এই কাজ টি করলো?

What the hand, dare seize the fire?অথবা, কোন হাতে সে সাহস করে তোমার জন্য আগুন নিয়ে এলো?

And what shoulder, & what art, কোন কাঁধ (ক্ষমতা) এবং কোন শিল্পী 

Could twist the sinews of thy heart?তোমার হৃদপিণ্ডের মাংস পেশী তৈরি করেছে? 

And when thy heart began to beat, যখন তোমার হৃদপিণ্ডের কম্পন শুরু হলো

What dread hand? & what dread feet?তখন তোমার পা এবং থাবা কি কম ভয়ানক ছিল? 

What the hammer? what the chain, কোন হাতুরী দিয়ে, কোন শিকল দিয়ে

In what furnace was thy brain?কোন চুল্লীতে তোমার মস্তিষ্ক টি তৈরি করা হয়েছে? 

What the anvil? what dread grasp, কামারের কোন নেহাই দিয়ে, কোন হাতের 

Dare its deadly terrors clasp!এত সাহস যে তোমায় ধরে তৈরি করছে!

When the stars threw down their spears তোমাকে সৃষ্টি করতে দেখে angels রা তাদের বর্শা ফেলে দিল

And water'd heaven with their tears:এবং গোটা স্বর্গ কে তাদের চোখের জল দিয়ে ভিজিয়ে দিল 

Did he smile his work to see?তোমার সৃষ্টি কর্তা কি তোমাকে সৃষ্টি করার পর হেসে ছিলো?

Did he who made the Lamb make thee?তোমাকে যে সৃষ্টি করেছে সেই কি মেষ শাবক কে সৃষ্টি করেছিল?

Tyger Tyger burning bright, ও বাঘ, তোমার চোখ দুটি জ্বলজ্বল করছে

In the forests of the night: জঙ্গলে রাতের আঁধারে

What immortal hand or eye, যে ঐশ্বরিক হাত বা চোখ

Dare frame thy fearful symmetry?তোমার ভয়ঙ্কর চেহারাটি বানিয়েছে তার কত সাহস? 

Substance: The tiger is a fearful creature with a lovely shape. In the forests at night. Its eyes burn brightly like balls of fire. The poet wonders to know who framed the tiger's body, fearful but well-proportioned. The creator of the tiger must have gone to distant volcanic deeps or skies in order to fetch needful fire for its eyes. He must have to take great physical labour and much time in forming the muscles of the tiger's heart. And when the tiger got his life, his paws and legs seemed dreadful and ferocious. The creator/God must have used a anvil, huge hammer, and chain while forming its fearful body. He displayed great skill and courage while creating the tiger. The angles became very puzzled to see the creation of the tiger and they threw down their spears and went on weeping. The poet wonders if God smiled with satisfaction to see his new creation (i.e., tiger). He cannot make out how God who created the meek and innocent lamb also created the ferocious tiger.

Sunday, December 19, 2021

প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের উত্থান

১. প্রাচীন প্রস্তর যুগ সম্বন্ধে আলোচনা করো।

২. মধ্য প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

৩. নব্যপ্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

৪. ভারতে তাম্র প্রস্তর সংস্কৃতির একটি বিবরণ দাও? কোন কোন অঞ্চলে এই সংস্কৃতির উদ্ভব লক্ষ্য করা যায় ? এই যুগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। অথবা, তাম্র সভ্যতা কখন কিভাবে ভারতে প্রসারলাভ করেছিল?

৫. হরপ্পা নগর পরিকল্পনা সম্বন্ধে লেখ।

৬. হরপ্পা সভ্যতা পতনের কারণ নির্ণয় করো।

৭. সিন্ধু সভ্যতার পতনে আবহাওয়া কতটা দায়ী ছিল?

৮. প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের গুরুত্ব নির্ণয় করো।

৯. প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদান হিসাবে সাহিত্যের গুরুত্ব ও সমস্যাগুলি আলোচনা করো।

১০. শিলালিপি ও মুদ্রার গুরুত্ব নির্ণয় কর?

১১. প্রাচীন ভারতে জাতিভেদ প্রথার বিকাশ সম্বন্ধে একটি প্রবন্ধ লেখ।

১২. ঋকবৈদিক যুগের অর্থনৈতিক জীবন আলোচনা কর।

১৩. আর্যদের ধর্মজীবন সম্বন্ধে আলোচনা কর।

১৪. ঋকবেদের যুগে আর্যদের সামাজিক জীবনযাত্রা সম্বন্ধে লেখ?

১৫. পরবর্তী বৈদিক যুগের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার কি কি পরিবর্তনমহয়েছিল?

১৬. বৈদিক যুগ থেকে গুপ্ত যুগ পর্যন্ত ভারতের নারীদের অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য কর।।

১৭. আর্যদের আদি বাসভূমি কোথায় ছিল?

১৮. জনপদ থেকে মহাজনপদ কেমন করে হল?

১৯. খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের প্রতিবাদী আন্দোলনের কারণগুলি ব্যাখ্যা কর।

১২. বৌদ্ধ ধর্মের উত্থানের কারণগুলি লেখ ?

২১.বৌদ্ধ ধর্মকে কি তুমি প্রতিবাদী ধর্ম বলবে?

২২. জৈনধর্মের পটভূমি সহ মহাবীরের অবদান মূল্যায়ন কর?

২৩. প্রাচীন ভারতের শিল্প ও হস্ত শিল্পের বিকাশের ধারা বর্ণনা কর।

২৪. খৃষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের মগধ সাম্রাজ্যবাদের উত্থানের কারণ ব্যাখ্যা কর।

২৫.নন্দ রাজাদের ঐতিহাসিক কৃতিত্ব মূল্যায়ণ কর।

২৬. বিম্বিসার থেকে নন্দবংশ পর্যন্ত মগধের উত্থানের কারণগুলি লেখ? ।। অথবা।। মগধের সাম্রাজ্যবাদের উত্থানে বিম্বিসারের ভূমিকা বর্ণনা কর।

Kalyani University General History- 1st Semerster (HIST GCCT-1)

📗  প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মের উত্থান
        👉 সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
        👉 মাঝারি প্রশ্নোত্তর
        👉 রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

📗  মৌর্য ও মৌর্যত্তর সাম্রাজ্য
        👉 সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
        👉 মাঝারি প্রশ্নোত্তর
        👉 রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

📗  গুপ্ত সাম্রাজ্যের উত্থান ও পতন এবং বিকেন্দ্রীকরণ রাজনীতির সূচনা
        👉 সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
        👉 মাঝারি প্রশ্নোত্তর
        👉 রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

📗  গুপ্তত্তর যুগে আঞ্চলিক রাজ শক্তির উত্থান এবং তাদের সংস্কৃতি
        👉 সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
        👉 মাঝারি প্রশ্নোত্তর
        👉 রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

হরপ্পা সভ্যতা পতনের কারণ নির্ণয় করো।

উত্তর : আনুমানিক ৩০০০ খ্রীঃ পূঃ ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে সিন্ধু সভ্যতার অভ্যুদয় হয়েছিল। সিন্ধু নদী অধ্যুষিত এলাকায় এই সভ্যতা বিকাশ হয়েছিল। কিন্তু কালক্রমে তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে মাটির নিচে স্থান পায়। এই সুপ্রাচীন সভ্যতা কেন ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো তার কারণগুলি অনুমান করা যেতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় বৈদেশিক আক্রমণের ফলে এই সংস্কৃতির অবসান হয়েছিল। কিন্তু কেবলমাত্র বিদেশী আক্রমণের ফলে একাজ সম্ভব নয়। ইহা শুধুমাত্র পতনকে ত্বরান্বিত বা সম্পন্ন করতে পারে। তাই এই সভ্যতার অবক্ষয়ের অন্যান্য কারণগুলিও অনুসন্ধান করা যেতে পারে।

১) জলবায়ুর পরিবর্তন -  খ্রীঃ পূঃ ৩০০০ অব্দে সিন্ধু নদী উপত্যকা অঞ্চলে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হত। জলবায়ু ছিল সমভাবাপন্ন। কিন্তু পরবর্তীকালে এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমান কমে যায়। এর কারণ সম্পর্কে মার্টিনার হুইলার বলেন যে সিন্ধু নগরগুলোতে গৃহ নির্মাণের জন্য প্রচুর পোড়ামাটি ও ইটের দরকার হয়। ইট পোড়াবার জন্য জ্বালানির প্রয়োজনে নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন শুরু হয়। যার ফলে বৃষ্টিপাত কমে যায়। এর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।

২) মরুভূমির বিস্তার -  বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় আবহাওয়া শুষ্ক হয় এবং মটি লবণাক্ত ঊষর হয়ে পড়ে। এইভাবে সিন্ধু অঞ্চলে ক্রমশঃ মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং এখানকার কৃষি উৎপাদন কমে যায়। ফলে তীব্র খাদ্য সংকট দেখা দেয়।

৩) মানুষের অযত্ন ও সংরক্ষণের অভাব- মানুষের অযত্ন এই অঞ্চলের সভ্যতার ধ্বংসের জন্য বিশেষভাবে দায়ী। প্রাচীনকালের ভারতীয় পশ্চিম প্রান্তে সভ্যতার যে ঊষালগ্ন সৃষ্টি হয়েছিল তা সংরক্ষণ করার কোন চেষ্টা হয়নি। এমন কোন ব্যবস্থা অবলম্বন করা হয়নি যাতে এই সভ্যতা কালের অমোঘ শাসন থেকে রক্ষা পেতে পারে।

৪) ভূমিকম্পঃ মহেঞ্ঝোদাড়ো এলাকায় জলবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণার পর অনেকে বলেছেন যে সুদূর অতীতে এই নগরের কাছে ভয়াবহ ভূমিকম্পের এক উৎসস্থল ছিল, ফলে এই নগরী ধ্বংস হয়েছিল।

৫) বন্যা : সিন্ধু নদের বন্যাও এই সভ্যতাকে ধ্বংস করে থাকতে পারে। এই বন্যা নিয়ন্ত্রণের কোন ব্যবস্থা ছিল না। নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ করতে যে সমস্ত বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন ছিল তার ব্যবস্থা করা হয়নি। তাই সিন্ধু নদীর বন্যা এই সভ্যতাকে ধ্বংস করে থাকতে পারে। সেইজন্য এম.আর.সাহানী বিশেষ জোর দিয়ে বলেছেন, “প্লাবনই সিন্ধু সভ্যতাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল।”

৬) সিন্ধু নদীর গতিপথ পরিবর্তনঃ অনেকের মতে সিন্ধু নদীর গতিপথ পরিবর্তনই এই নগরীর ধ্বংস হবার প্রধান কারণ। এই পরিবর্তন দুই দিক থেকে হরপ্পা ও মহেঞ্ঝোদাড়োকে আঘাত করেছিল।

প্রথমতঃ বন্দর হিসাবে এর কোন গুরুত্ব ছিল না।

দ্বিতীয়তঃ জলবায়ু ও শুষ্কতা বৃদ্ধির ফলে এখানকার কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নিচে নেমে গিয়েছিল। যার ফলে বিদেশীরা সহজে এই নগর অধিকার করতে পেরেছিল।

৭) বিদেশী শত্রুর আক্রমণঃ খ্রীঃ পূঃ ১৫০০ অব্দে এই সভ্যতা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই সময় আর্যরা ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। খুব সম্ভবতঃ আর্যরাই হরপ্পা সভ্যতাকে ধ্বংস করেছিল। এই সভ্যতার ধ্বংসাবশেষে যেসব কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছে তার মাথায় এবং শরীরে তীব্র আঘাতের চিহ্ন আছে। এই ধ্বংসাবশেষ থেকে বড় বড় লোহার অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে। এই সকল নিদর্শন সমূহ অনুযায়ী অনুভূত হয় যে হরপ্পা ধ্বংসকারী হিসাবে আর্যদের অভিহিত করা যায়। তাছাড়া ঋগ্বেদে পুরন্দর ইন্দ্র যে ধরণের দূর্গ নষ্ট করেছেন বলা হয়েছে অনেকটা সেই ধরণের দুর্গ হরপ্পায় পাওয়া গিয়েছে। অধ্যাপক পিগট এই তথ্যগুলির উপর নির্ভর করে আর্যরা কিভাবে হরপ্পা ধ্বংস করেছিল তার বর্ণনা করে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। মার্টিনার হুইলারও পুরাতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের উপর ভিত্তি করে হরপ্পা ধ্বংসের সঙ্গে যুক্ত তথ্যগুলির সাহায্যে এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, আর্য আক্রমণের ফলেইহরপ্পা সভ্যতার পতন ঘটে। হুইলার মনে করেন যে, হরপ্পা দুর্গের সর্বোচ্চ স্তরে যে সমাধিক্ষেত্রটি পাওয়া যায় এবং সমাধি ক্ষেত্রে যেসব নরদেহের অবশিষ্ট পাওয়া গিয়েছে, সেই দেহগুলির অধিকারীরা ছিলেন আদি বৈদিক আর্য। তাই হুইলার বলেছেন, “ইতিহাসের দরবারে আর্যগণ সিন্ধু উপত্যকার সভ্যতার ধ্বংসাকারী রূপে অভিযুক্ত।”

৮. আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-  হরপ্পার অন্তিম পর্বে এই সভ্যতার পতনের অন্যতম কারণ ছিল রক্তপাতের মধ্য দিয়ে। মহেনজোদারোয় প্রাপ্ত স্তূপীকৃত কঙ্কাল এবং একটি কুয়োর ধারে সিঁড়ির উপর পাওয়া একটি নারী দেহের কঙ্কাল তাদের অস্বাভাবিক মৃত্যুর স্মারক হয়ে আছে। অনেকের মাথায় খুলিতে ভারি অস্ত্রাঘাতের চিহ্ন মৃত্যুর ভয়াবহতা ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই রক্তপাত কেন হয়েছিল কারা ঘটিয়েছিল এই নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। কারো মতে গৃহযুদ্ধই এই রক্তপাতের কারণ। আবার কারো মতে বিদেশী আক্রমণকারীরা এই রক্তপাতের জন্য দায়ী।

হরপ্পা নগর পরিকল্পনা সম্বন্ধে লেখ।

→ সিন্ধু সভ্যতা মূলত ছিল নগরকেন্দ্রিক বা নাগরিক সভ্যতা যা হরপ্পা মহেঞ্জোদরোয় নগরের ধ্বংসাবশেষে পরিলক্ষিত হয়। এই নগরগুলির গঠনরীতি দেখে বোঝা যায় যে নগরবিন্যাসের মান তখন কত উন্নত ছিল।

নগরের উত্তর থেকে দক্ষিণ এবং পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে সমান্তরালভাবে কয়েকটি রাস্তা চলে গিয়েছে। এই রাস্তাগুলি থেকে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য গলি। গলিগুলির দুপাশে নাগরিকদের ঘরবাড়ি ছিল এই বাড়িগুলি পোড়া ইটের তৈরি এবং অনেক বাড়ি দোতলা। প্রত্যেক বাড়িতে স্নানাগার, কুয়ো ও নর্দমার ব্যবস্থা ছিল। বাড়ির নোংরা জল নর্দমা দিয়ে এসে রাস্তার ঢাকা দেওয়া বাঁধানো নর্দমায় পড়ত।

শহরের উঃ পূর্ব কোণে সারিবদ্ধভাবে ছোট ছোট খুপরি জাতীয় কিছু ঘর ছিল। মনে হয় এগুলি দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের ব্যবহার স্থান ছিল। মহেঞ্জোদরোতে সর্বসাধারণের ব্যবহার উপযোগী একটি বিরাট বাঁধানো স্নানাগার আবিষ্কৃত হয়েছে। তার আয়তন দৈর্ঘ্যে ১৮০ ফুট ও প্রস্থে ১০৮ ফুট। হরপ্পার কেন্দ্রীয় শস্যগারটির আয়তন ১৬৯×১৩৫ ফুট। হরপ্পা মহেঞ্জোদরো উভয় শহরেই একদিকে ছিল ধনীর প্রাসাদ ও অন্যদিকে নিম্নবিত্তের গৃহ। ডঃ কোশাম্বীর মতে এখানকার নগর পরিকল্পনায় শ্রেণি বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। এ.এল. ব্যাসাম-এর মতে শ্রমিক বা দাস শ্রেণির জন্য দুটি কক্ষ যুক্ত ইটনির্মিত বাড়ি থাকত। সুখস্বাচ্ছন্দ্যের সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা সিন্ধু সভ্যতার নাগরিক জীবনের প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।

পরিকল্পিত হরপ্পা নগরী সংস্কৃতির একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। দুইটি প্রধান নগরী মোহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পা। মাটিন হুইলার বলেছেন মোহেনজোদারো যখন পরিকল্পিত হয়েছিল নগর পরিকল্পনা তখন শুধু মাত্র পরীক্ষার পর্যায়ে ছিল না-একটি উন্নত স্তরে পৌঁছেছিল।এই নগর দুটিতে প্রধানত দুইটি অংশ ছিল। একটি অংশ অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে যেখানে দুর্গ ছিল। আর বাকি অংশ ছিল নিচু এলাকা। মনে করা হয় এখানে নিচু পদের লোকেরা বাস করত। দুইটি অংশের মধ্যে যোগাযোগের রাস্তাগুলি খুব চওড়া ছিল না।

রাজস্থানের কালিবঙ্গান এর দুর্গকে ঘিরে একটি বড় ইটের দেওয়াল ছিল। মোহেনজোদারের নগর দুর্গের কাছে বড় একটি স্নানাগার পাওয়া গেছে। এর কেন্দ্র স্থলে ৩৯ ফুট লম্বা, ২৩ ফুট চওড়া ও ৮ ফুট গভীর একটি জলাশয় ছিল এবং এই জলাশয়ে জল প্রবেশের ও জল নিষ্কাশনের সুন্দর ব্যবস্থা ছিল। জলাশয়টিকে ঘিরে গ্যালারি ছিল। বিস্ময়ের বিষয় এই যে পাঁচ হাজার বছর পরেও স্নানাগারটি আজও অক্ষত আছে। দুইটি নগরের পরিকল্পনা প্রায় একই রকমের ছিল। প্রতিটির ক্ষেত্রেই নগর দুর্গের নিচে ছিল আসল শহর। দুই নগরেরই আয়তন ছিল প্রায় ১ বর্গ মাইল এখানকার রাস্তাগুলি ছিল প্রশস্ত এবং সোজা।

প্রতিটি অঞ্চলে অনেক অপরিসর রাস্তা ছিল। কাঁচা ইট পরে পোড়া ইটের সব বাড়ি তৈরি হয়েছিল। তবে কোন পাথরের বাড়ি ছিল না। ইটগুলি বেশ বড় ছিল। তবে সর্বত্র একই মাপের ইট ব্যবহার হত। হয়ত বন্যার হাত থেকে বাঁচার জন্যই পোড়া মাটির ইট তৈরি হত ব্যাপক ভাবে। এই সংস্কৃতি শ্ৰেণীবৈষম্য এড়াতে পারে নাই তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন আয়তনের বাড়িগুলি থেকে। একতলা, দোতলা বাড়ী যেমন ছিল তেমনি ছোট ও মাঝারি ধরণের বাড়ির চিহ্ন ও অনেক পাওয়া গেছে। বাড়িগুলোর আয়তনের তারতম্য থাকলেও পরিকল্পনা ছিল প্রায় একই রকমের। প্রতিটি বাড়িতে দরজা, জানালা সিঁড়ি স্নানঘর এবং একটি চারকোনার চত্বর ছিল। সরু গলি দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করতে হত। রাস্তার উপর কোন জানালা ছিল না। প্রতিটি বাড়িতে ২টির বেশি কুয়ো ছিল। বাড়ীর জল ও আবর্জনা নিস্কাশনের জন্য উন্নত পয়ঃপ্রণালীর ব্যবহার ছিল। হয়ত পয়ঃপ্রণালীর গঠন ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোন পৌর প্রতিষ্ঠান ছিল। বেশ কয়েকটি বাড়ীর ধ্বংশাবশেষে উন্নত মানের শৌচাগারের ব্যবহার দেখা গেছে। সাধারণ ভাবে বলা যায় প্রাচীন প্রাচ্যে এটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত।

সিন্ধু উপত্যকার নগর দুইটির সঙ্গে তুলনায় কাথিয়াবাড়ে সমুদ্রতীরের বাণিজ্য কেন্দ্র এবং বন্দর লোথাল-এর পরিকল্পনা একটু অন্য রকম ছিল। এখানে সমগ্র শহরটি ছিল প্রাচীর বেষ্টিত। শহরের পূর্ব দিকে জাহাজ মেরামতের স্থান ছিল। এই সভ্যতায় মন্দির বা উপাসনালয়ের অস্তিত্ব ছিল কিনা সে বিষয়ে মতভেদ আছে। অনেক বড় বড় বাড়িগুলিকে মন্দির রূপে গণ্য করা হয়। কিন্তু এই বাড়িগুলির মধ্যে কোন মূর্তি পাওয়া যায় নাই। তবে এই সভ্যতায় পোড়া মাটির শিল্পকার্য এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। প্রসঙ্গত স্মরণীয় এই সভ্যতা নগরকেন্দ্রিক হলেও বেশি ভাগ মানুষই কৃষিকার্যের সাথে যুক্ত ছিল। পরিশেষে বলা যায় হরপ্পা সংস্কৃতির লোকজন খুব শিল্পরুচিসম্পন্ন ছিল—একথা বলা যায় না। শিল্পের জন্য শিল্প-এই নীতিতে তারা বিশ্বাসী ছিল না। তাদের নগর পরিকল্পনা এবং গৃহ নির্মাণের মূল লক্ষ্য ছিল প্রয়োজন মেটানো সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য নহে। তাদের বাড়িঘরে কোন অলঙ্করণের চিহ্ন পাওয়া যায় না।

ভারতে তাম্র প্রস্তর সংস্কৃতির একটি বিবরণ দাও? কোন কোন অঞ্চলে এই সংস্কৃতির উদ্ভব লক্ষ্য করা যায় ? এই যুগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো। অথবা, তাম্র সভ্যতা কখন কিভাবে ভারতে প্রসারলাভ করেছিল?

ঊত্তরঃ এই সভ্যতার উদ্ভবের সময়কাল আনুমানিক খৃঃ পূঃ ২০০০-১৮০০ অব্দের মধ্যে। নব্য প্রস্তর যুগের শেষের দিকে মানুষ ধাতুর ব্যবহার শেখে। এই সভ্যতার অভ্যুদয়ে তামাই প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। তাই এই  যুগ কে তাম্র প্রস্তর যুগ বলা হয়।  তাম্র প্রস্তর যুগের সভ্যতাকে ক্যালকলিথিক সভ্যতা বলা হয়। গ্রীক 'ক্যালক’ কথার অর্থ 'তামা' আর লিথিক কথার অর্থ হচ্ছে প্রস্তর। প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য সমূহ থেকে জানা যায়  এই যুগে মধ্য পশ্চিম ভারতের উপর হরপ্পা সংস্কৃতির প্রভাব ছিল অনেক বেশি।

ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিকরা নাসিক ও নেভাসা প্রভৃতি স্থান উৎখনন করে তাম্রপ্রস্তর যুগের মানুষের জীনবযাত্রা সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। মালব ও মহারাষ্ট্রের মানুষদের তখন প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি এবং পশুপালন। হরপ্পার মতো এখানে অনেক পাথরের 'ফলা' পাওয়া গেছে। কার্বণ ১৪ পরীক্ষার দ্বারা জানা গেছে এই এলাকায় তাম্র প্রস্তর যুগের সূচনা হয়েছিল খৃঃ পূঃ ১৭০০ অথবা ১৬০০ অব্দের মধ্যে।

মধ্য ভারতে এবং দাক্ষিণভারতে তাম্র প্রস্তর যুগের উদ্ভব সম্পর্কে বিতর্ক আছে। কোন কোন নৃতাত্ত্বিক পারস্যের প্রভাব উল্লেখ করেছেন। তাম্র প্রস্তর সংস্কৃতির চিহ্ন পূর্ব ভারতে পাওয়া গেছে।

 বৈশিষ্ট্য- তাম্র- প্রস্তর যুগের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

১. পেশা- এই সংস্কৃতির যারা পত্তন করেছিল তারা কৃষক হলেও পশুশিকার, মাছ শিকার তাদের জীবিকা ছিল। তারা তামার জিনিস তৈরী করত। এই সময় উত্তর বিহারের চিরদতে তাম্র প্রস্তর সংস্কৃতির যে নিদর্শন পাওয়া গেছে, তাকে স্থানীয় “নব্য প্রস্তর সংস্কৃতির” উত্তরসুরী বলে মনে করা হয়। বাংলার এক বিশাল অঞ্চল জুড়ে তাম্র যুগের সভ্যতার উত্থান ঘটেছিল।

(১৯৭৬ খৃঃ মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা থানার অন্তর্গত আজাইবানীর ৪০ ফুট গভীর মাটির তলা থেকে পাওয়া গেছে নানা আকৃতির তাম্র প্রস্তর যুগের নিদর্শন। পুরাতাত্ত্বিক দেবকুমার চক্রবর্তীর মতে এগুলি হরপ্পার পূর্ববর্তী বা সমসাময়িক মানব গোষ্ঠীর দ্বারা নির্মিত। এই জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতের নবপোলীয় যুগের ব্যবহৃত দ্রব্য এবং আয়ুধ সমূহ দেখতে পাওয়া গেছে। এছাড়াও কাশ্মীরের বুরঝহোম এর তিরুনেলবেলি জেলায় সবরমতি নদীর উপত্যকায়, গুজরাটের গোদাবরী নদীর নিম্নতর অবহাহিকায়, নর্মদা ও মহানদীর উপত্যকা মহীশূরের ব্রহ্মগিরি এবং পশ্চিম বিহারের নানা স্থানে এই সময়ের বহু নিদর্শন পাওয়া গেছে।)

২. হাতিয়ার- এই যুগের অস্ত্রগুলি তৈরী হত এর আগ্নেয়শিলাখন্ড দ্বারা। এই অস্ত্রগুলিকে মসৃণ করা হত। অস্ত্রগুলির মধ্যে কুঠার, বাটালি, পাথরের লাঠি, মসৃণকারী পাথর খন্ড বিশেষভাবে স্মরণীয়। পরবর্তীতে, তামার ব্যবহারের ফলে মানব সভ্যতার ইতিহাসে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যায়। তামাকে আগুনে গলিয়ে বিভিন্ন আকারের হাতিয়ার তৈরী করা যায়। তামার তৈরী কাস্তে, ছোরা, কুঠার, বর্শা ফলক, তিরের ফলা প্রভৃতি হাতিয়ার এসময় ব্যবহৃত হত। এই হাতিয়ার পাথরের তুলনায় অনেক বেশি ধারালো ও তীক্ষ্ণ হয়।

৩. জীবনযাপন- এই সময়কার মানুষরা গর্তের মধ্যে বাস করত। গর্তে নামার জন্য সিঁড়ি ব্যবহার করত। ধূসর রঙের মৃৎপাত্র ব্যবহার করত।  সেই যুগে পাথরের ইঁট ও পোড়ানো ইটের ব্যবহার চোখে পড়ে। ক্রমে নগর জীবনের প্রতিষ্ঠা হয়। এই যুগে প্রচুর মৃৎপাত্রের ব্যবহার হতো এবং মৃতদেহকে সৎকার করার প্রথা চালু ছিল বলে জানা গেছে।

(এই যুগের দ্রব্য সম্ভার সমূহ আরো অনেক জায়গায় পাওয়া গেছে। সেগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর, মধ্য ভারতের পাল্লা, মধ্যপ্রদেশের সাগরজেলা, বিহারের হাজারিবাগ, পাটনা, সাঁওতাল পরগনা ও সিন্ধু অঞ্চলে এবং পশ্চিমবঙ্গে বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, দার্জিলিং নদীয়া জেলা, আসামের গাড়ো ও নাগা পাহাড়, মহীশূরের ব্যাঙ্গালোর ও চীতলাদুৰ্গজেলা, তামিলনাড়ুর অনন্তপুর, বেড়ালি উত্তর আকট ও তাঞ্জোর জেলায়। প্রসঙ্গত স্মরণীয় মহীশুর এবং অন্ধ্রপ্রদেশের নবোপল্লীয় যুগের লোকেরা কিছুটা সময়ের ব্যবধানে কিছু তামার ব্যবহার শিখেছিল। এর থেকেই এর পরবর্তী যুগ তাম্র প্রস্তর যুগ নামে পরিচিত। এই যুগের নিদর্শনগুলি পাওয়া গেছে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক খননের ফলে বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান, বীরভূম, মেদিনীপুর অঞ্চলজুড়ে এক সমৃদ্ধশালী তাম্রযুগের সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। সম্প্রতি আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব বিভাগের খ্যাতনামা অধ্যাপক গেগরী পয়সেল বলেছেন যে—‘ভারতের তাম্রযুগের সভ্যতাই পৃথিবীর মধ্যে প্রাচীনতম। কারণ ভারতে প্রচুর পরিমাণে তামা, প্রাকৃতিক কারণেই মাটির উপরে শক্ত খন্ড খন্ড অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়াও সেই যুগের প্রাচীন বৃহত্তম খনিগুলি পূর্ব ভারতেই অবস্থিত ছিল। অনেক পরবর্তী সময় তামা আদান-প্রদানের জন্য যে বন্দরটি তৈরী হয়েছিল তার নাম হয়েছিল তাম্রলিপ্ত।)

নব্যপ্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।


উত্তর : মধ্য প্রস্তর যুগের পরবর্তী পর্যায়ে নব্য প্রস্তর যুগের আবির্ভাব হয়েছিল। আনুমানিক খ্রিঃপূঃ ১০,০০০ থেকে খ্রিঃ পূঃ ৫০০০ অব্দে দক্ষিণ এশিয়ায় এই যুগের সূচনা হয়েছিল। তবে ভারতে এ যুগের সূচনা হয় দেরিতে, ৬০০০ খ্রিঃ পূঃ।

·      বৈশিষ্ট্য- নব্য প্রস্তর যুগের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি হল—

১) হাতিয়ার- নব্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ারগুলি পূর্বের তুলনায় মসৃণ হয়। সেই যুগে মানুষরা  কোদাল, গাঁইতি, নিড়ানি প্রভৃতির ব্যবহার শুরু হয়। এই সময় পাথরে পাথরে ঘষে ব্যবহারযোগ্য হাতিয়ার তৈরী করা হতে থাকে।

2) বয়ন শিল্পের বিকাশ- নব্য প্রস্তর যুগে প্রথম বয়ন শিল্প বিকশিত হয়েছিল।

৩) কৃষির উদ্ভবঃ নব্য প্রস্তর যুগের মানুষ কৃষিকাজের কৌশল আবিষ্কার করে এবং স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে। ফলে খাদ্য সংগ্রহকারী থেকে খাদ্য উৎপাদনকারীতে পরিণত হয়। নব্য প্রস্তর যুগে কৃষির আবিষ্কারের ফলে মানুষের খাদ্য ও আশ্রয়ের অনিশ্চয়তা দূর হয়।

৪) পশুপালনঃ নব্য প্রস্তর যুগে মানুষ কৃষির প্রয়োজনে পশুপালন করতে শুরু করে। পশুকে কৃষি জমিতে কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। পরিবহনের কাজেও পোষ মানানো পশুকে কাজে লাগানো শুরু হয়। এই সময় দক্ষিণ এশিয়ায় হাতি ও মহিষকে এবং জর্ডনে কুকুর ও ছাগলকে প্রতিপালন করা শুরু হয়।

৫) স্থায়ী বসতি নির্মাণঃ নব্য প্রস্তর যুগে কৃষি আবিষ্কারের ফলে মানুষ খাদ্য ও বসবাসের উপযোগী জায়গা নির্বাচন করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। ফলে মানুষের যাযাবর জীবনের অবসান ঘটে এবং তারা সভ্যতার অগ্রগতির দিকে আরও একধাপ অগ্রসর হয়।

৬) মৃৎশিল্পের বিকাশ : এই যুগেই মানুষ কুমোরের চাকার সাহায্যে মৃৎপাত্র তৈরী করতে শেখে। এসময় মৃৎশিল্প বেশ উন্নতমানে পৌঁছেছিল।

৭) ধাতুর ব্যবহার : নব্য প্রস্তর যুগের শেষদিকে মানুষ তামা ও ব্রোঞ্জের জিনিস ব্যবহার করতে শেখে। মানুষের মধ্যে শিল্পীসত্তার বহিঃপ্রকাশ এ যুগেই হয়েছিল।

৮) অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াঃ মৃতদের সমাধিস্থ করার প্রথা এ যুগেই চালু হয়। এ সময় আংশিক ও পূর্ণ উভয় ধরণেরই সমাধির প্রচলন ছিল।

১০) ধর্ম বিশ্বাস- প্রকৃতির বিভিন্ন ঘটনা এসময় মানুষের মনে ভয়ের উদ্রেক করে। এই ভয় থেকে জন্ম নেয় ধর্মবিশ্বাস। ভয়ংকর প্রকৃতিকে শান্ত করার জন্য তারা প্রাকৃতিক শক্তিগুলিকে দেবতারূপে পুজো করতে শুরু করে। তারা ঝড়, বৃষ্টি, মাটি, চন্দ্র, সূর্যকে দেবতারূপে মান্য করত।

১১) যানবাহনঃ এই যুগে মানুষ জলপথে যাতায়াতের জন্য মানুষ ভেলা অর্থাৎ কতকগুলি কাঠের গুড়িকে একসঙ্গে বেঁধে ব্যবহার করত। এছাড়া এইসময় মানুষ চাকার ব্যবহার শেখে এবং স্থলপথে গোরুর গাড়িকে যান হিসাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। তারা গাধা ও উটের পিঠে করে যাতায়াত করত।

১২) ভাষা- নব্য প্রস্তর যুগের মানুষের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক ও বিনিময় প্রথার ব্যাপকতার ফলে ভাব বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ক্রমে ভাষার উন্নতি ঘটে।

মধ্য প্রস্তর যুগের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।

উত্তর : প্রাচীন প্রস্তর যুগ ও নব্য প্রস্তর যুগের মধ্যবর্তী সময়কাল মধ্য প্রস্তর যুগ নামে পরিচিত হয়। আনুমানিক খ্রীষ্টপূর্ব ১৫, ০০০ অব্দ থেকে খ্রীষ্টপূর্ব ১০,০০০ অব্দ পর্যন্ত মধ্য প্রস্তর যুগ বিস্তৃত ছিল। এই যুগের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগুলি গুলি হল-

১) হাতিয়ার- মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষ হাতিয়ার তৈরীতে আরও দক্ষতার পরিচয় দেয়। এ যুগের হাতিয়ারগুলি অপেক্ষাকৃত হালকা, ক্ষুদ্রতর এবংধারালো মূল পাথরের ওপর আঘাত করে পাথর খণ্ডের কোনাচে অংশ বের করে নেওয়া হত। এই কোনাচে অংশ পুরাতত্ত্বের ভাষায় 'ক্লেক’ বলে অভিহিত হয়ে থাকে। এ যুগের মানুষের প্রধান অস্ত্র ছিল তির-ধনুক, হারপুন, বড়শি প্রভৃতি। হাতিয়ারের ক্ষুদ্র আকারের জন্য এ যুকে 'ক্ষুদ্র প্রস্তর যুগ' নামেও অভিহিত করা হয়।

২) জীবিকা : মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল পশু শিকার ও ফলমূল সংগ্রহ। বড়ো পশু শিকারের পাশাপাশি তারা লাল হরিণ, বনবিড়াল, নেউল প্রভৃতি পশুও শিকার করত। যারা নদী ও সমুদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করত তারা সেখান থেকে মাছ ও শামুক ইত্যাদি সংগ্রহ করত।

৩) পশুপালনঃ এই যুগের মানুষ ক্রমশ পশুপালনেও অভ্যস্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছিল নর্মদা উপত্যকায় আদমগড়ের প্রত্নক্ষেত্রতে হরিণ, সজারু প্রভৃতি নিহত বন্য পশুর দেহের অস্থি পাওয়া যায়। পাশাপাশি গবাদি পশু, শূকর, কুকুর, মহিষ, ভেড়া ইত্যাদির অস্থিও পাওয়া গিয়েছে সেগুলিতে আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। এরই ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেন যে, এখানকার মানুষ প্রধানত শিকারি হলেও তারা গৃহপালিত পশুর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল। পশুর অস্থি যে সংখ্যায় এই অঞ্চলে পাওয়া গিয়েছে সেগুলি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, শিকারের উপর নির্ভরশীলতা ক্রমশ হ্রাস পেতে শুরু করেছিল এবং গৃহপালিত পশুর উপর নির্ভরশীলতা বাড়তে শুরু করে। এও মনে করা হয় যে, শিকার ও পশুপালন নির্ভর এক মিশ্র আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।

৪) যানবাহনঃ বরফের ওপর দিয়ে চলার জন্য মধ্যপ্রস্তর যুগের মানুষ স্লেজগাড়ির ব্যবহারও জানত। এই গাড়ি অবশ্য কুকুরে টানত। তারা জলপথে যাতায়াতের জন্য গাছের গুড়ি  ব্যবহার করে নৌকা বানাত।

৫) চিত্রকলাঃ এ যুগের চিত্রকলার বিষয়বস্তু ছিল নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রী এবং বিভিন্ন হাতিয়ার। আবার মানুষ ও পশুর চিত্রও পাওয়া গিয়েছে রাশিয়া, ফিনল্যাণ্ড ও সুইডেনের বিভিন্ন প্রাচীন গুহায়।